
আমরা চাই একটি ইসলামী বিপ্লব।


মানবজীবনে এ অবৈধ পন্থায় উপার্জনকে কুরআন ও হাদিসে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা পরস্পরের মধ্যে তোমাদের ধনসম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা। আর তোমরা নিজদের হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে পরম দয়ালু।’
রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘এক ব্যক্তি দীর্ঘ সফরে থাকা অবস্থায় এলোমেলো চুল ও ধূলিধূসরিত দেহ নিয়ে আকাশের দিকে হাত তুলে হে প্রভু! বলে মোনাজাত করে, অথচ সে যা খায় তা হারাম, যা পান করে তা হারাম, যা পরিধান করে তা হারাম এবং হারামের দ্বারাই সে পুষ্টি অর্জন করে। তার মোনাজাত কীভাবে কবুল হবে?’
সাদরা, বলেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন আমার দোয়া কবুল হয়। রাসূল (সা.) বললেন: হে সাদ! তোমার উপার্জনকে হালাল রাখ, তোমার দোয়া কবুল হবে। মনে রেখ, কেউ যদি হারাম খাদ্যের একগ্রাসও মুখে নেয়, তাহলে চল্লিশ দিন যাবৎ তার দোয়া কবুল হবে না।’
‘যে ব্যক্তি দশ দিরহাম দিয়ে কোন কাপড় কিনল এবং তার মধ্যে এক দিরহাম অসৎ উপায়ে অর্জিত, সে যতদিন ওই কাপড় পরিহিত থাকবে ততদিন তার নামাজ কবুল হবে না।’ ইমাম ইবনুল ওয়ারদ বলেন, তুমি যদি জিহাদের ময়দানে যোদ্ধা অথবা প্রহরী হিসাবে নিয়োজিত থাক, তাতেও কোনো লাভ হবে না, যতক্ষণ তুমি যা খাচ্ছ তা হালাল না হারাম, তা বিবেচনায় না রাখ।’
আবুবকর (রা.)-এর একজন গোলাম ছিল। সে আবুবকরকে মুক্তিপণ হিসাবে কিছু অর্থ নেওয়ার শর্তে মুক্তি চাইলে তিনি তাতে সম্মত হন। অতঃপর সে প্রতিদিন তার মুক্তিপণের কিছু অংশ নিয়ে আসত। আবুবকর (রা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কীভাবে এটা উপার্জন করে এনেছ? সে যদি সন্তোষজনক জবাব দিত, তবে তিনি তা গ্রহণ করতেন, নচেত করতেন না।
একদিন সে রাতের বেলায় তার জন্য কিছু খাবার নিয়ে এলো। সেদিন তিনি রোজা ছিলেন। তাই তাকে ওই খাদ্যের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেলেন এবং এক লোকমা খেয়ে নিলেন। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এ খাবার তুমি কীভাবে সংগ্রহ করেছো? সে বলল, আমি জাহেলিয়াত যুগে লোকের ভাগ্য গণনা করতাম। আমি ভালো গণনা করতে পারতাম না। কেবল ধোঁকা দিতাম। এ খাদ্য সেই ভাগ্য গণনার উপার্জিত অর্থ দ্বারা সংগৃহীত।
আবুবকর (রা.) বললেন, কী সর্বনাশ! তুমি তো আমাকে ধ্বংস করে ফেলার উপক্রম করেছো। তারপর গলায় আঙুল ঢুকিয়ে বমি করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু বমিতে খাদ্য বের হবে না। উপস্থিত লোকেরা তাকে বলল, পানি না খেলে খাওয়া জিনিস বের হবে না। তখন তিনি পানি চাইলেন।
পানি খেয়ে খেয়ে সব ভুক্ত দ্রব্য পেট এক লোকমা খাওয়ার কারণেই কি এত সব? আবুবকর (রা.) বললেন, খাদ্য বের করার জন্য যদি আমাকে মৃত্যুবরণও করতে হতো, তবুও আমি বের করে ছাড়তাম। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)কে শুনেছি: ‘যে দেহ হারাম খাদ্য দ্বারা গড়ে ওঠে তার জন্য জাহান্নামের আগুনই উত্তম।’

পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম ইসলাম। সাম্য, শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তাবাহী ইসলামের প্রতি মানুষের এ আগ্রহের মূলে রয়েছে কুরআনের সার্বজনীনতা। প্রতিবছরের মতো এবারও ইসলাম ও কুরআন ছিল মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। ২০২২ সালে সংঘটিত ইসলাম ও মুসলিম বিশ্বের তাৎপর্যপূর্ণ কিছু ঘটনা তুলে ধরেছেন-মাহমুদ আহমদ
দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম ইসলাম
দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম হিসাবে শীর্ষে আছে ইসলাম। বিশ্বে মুসলিম জনসংখ্যা ১৮০ কোটি থেকে বেড়ে ২০৬০ সালে ৩০০ কোটিতে উন্নীত হবে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের (Pew Research Center) তথ্যের সাহায্যে এ বছর বিশ্বব্যাপী প্রধান প্রধান ধর্মের মানচিত্র প্রকাশ ধরেছে ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট ওয়েবসাইট (www.visualcapitalist.com)। পিউ রিসার্চ সেন্টার বিশ্বের ধর্মগুলোকে সাতটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করেছে। এর মধ্যে প্রধান ধর্ম পাঁচটি খ্রিষ্ট ধর্ম, ইসলাম, বৌদ্ধ, হিন্দু ও ইহুদি ধর্ম।
বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৩১ শতাংশ খ্রিষ্টান, প্রায় কাছাকাছি ইসলাম ধর্মের অনুসারী ২৫ শতাংশ। প্রধান ধর্মের মধ্যে ইহুদিদের জনসংখ্যা সবচেয়ে কম, বিশ্বের মাত্র .২ শতাংশ। অঞ্চল হিসাবে মুসলিম জনসংখ্যা সর্বোচ্চ ৯৩.১ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে, সাব-সাহারা আফ্রিকান অঞ্চলে ৩১.৪ শতাংশ, এশিয়া প্যাসিফিকে ২৫.৭ শতাংশ, ইউরোপে ৬.৮ শতাংশ এবং উত্তর আমেরিকায় ১.৩ শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাবশালী ধর্ম ইসলামের অনুসারী ৯৫ শতাংশেরও বেশি। ১৪.২ শতাংশ মুসলিম ভারতে বসবাস করে। ফলে ইন্দোনেশিয়ার পর দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার অন্যতম। এ ছাড়া ইসলাম বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল প্রধান ধর্ম। মুসলমানদের সংখ্যা ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৫ সালে ১৮০ কোটি থেকে ২০৬০ সালে প্রায় ৩০০ কোটিতে উন্নীত হবে বলে মনে করা হয়।
প্রভাবশালী পাঁচশ মুসলিমের তালিকা প্রকাশ
বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ প্রভাবশালী পাঁচশ মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকা প্রকাশ করেছে আম্মানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য রয়েল ইসলামিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার’। ৩০ অক্টোবর ২০২৩ সালের জন্য প্রকাশিত তালিকায় শীর্ষ ৫০ প্রভাবশালী মুসলিমের নাম ধারাক্রমে উল্লেখ করা হয়। অবশিষ্ট ৪৫০ জনের নাম ১৩টি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান বিবেচনায় উল্লেখ করা হয়।
ক্ষেত্রগুলো হলো পাণ্ডিত্ব, রাজনীতি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, ধর্ম প্রচার ও আধ্যাত্মিক নির্দেশনা, দাতব্যসেবা ও উন্নয়ন, প্রযুক্তি, সামাজিক ইস্যু, বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিল্প ও সংস্কৃতি, কুরআন তেলাওয়াত, মিডিয়া, সেলিব্রিটি ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। এবারের বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব হিসাবে ভারতের জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানি এবং বর্ষসেরা নারী হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতিমান অনুবাদক আয়েশা আবদুর রহমান বিউলির নাম ঘোষণা করা হয়।
কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ তৃতীয়
আবারও আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় দেশের নাম উজ্জ্বল করলেন হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম। ১১১ দেশের ১৫৩ হাফেজের মধ্যকার এ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন তিনি। মক্কার পবিত্র হারাম শরিফে একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত বিজয়ীদের মধ্যে তৃতীয় বিজয়ী হিসাবে তাকরিমের নাম ঘোষণা করা হয়। এ সময় তার হাতে এক লাখ রিয়াল (প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ টাকা) পুরস্কার, সনদ ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
নিউইয়র্কে প্রথম মুসলিম পুলিশ কমান্ডিং অফিসার
প্রথম আমেরিকান মুসলিম হিসাবে নিউইয়র্ক সিটির লোকাল প্রিসিডেন্টের কমান্ডিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ পান ক্যাপ্টেন আদিল। ৭ জুলাই পাকিস্তান বংশোদ্ভূত এ ক্যাপ্টেনের নিয়োগ নিশ্চিত করে নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগ। ক্যাপ্টেন রানার নিয়োগ প্রাপ্তিতে শুভেচ্ছাবার্তা জানায় আমেরিকার বিভিন্ন মুসলিম কমিউনিটি। একজন মুসলিম কমান্ডিং অফিসার হিসাবে নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগে আদিলই প্রথম।
কাবা শরিফের নতুন খতিব শায়খ ইয়াসিরের প্রথম জুমা
কাবা শরিফের নবনিযুক্ত খতিব শায়খ ড. ইয়াসির বিন রাশেদ দাওসারি ১৬ ডিসেম্বর, ২২ জুমাদিউল আউয়ালে প্রথম জুমা পড়ান মসজিদুল হারামে। ২০১৯ সাল থেকে তিনি পবিত্র এ মসজিদে শুধু ইমাম হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। খতিব হিসাবে নিযুক্ত হওয়ার ১০ দিন পর তিনি হারাম শরিফে জুমা পড়ান।
কাতার বিশ্বকাপের অভ্যর্থনায় মহানবির বাণী
ফিফা বিশ্বকাপের ৯২ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো মুসলিম রাষ্ট্রে সর্বকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার কাতারের ব্যয় ২২০ বিলিয়ন; টাকায় যা প্রায় ১৮ লাখ ৯৭ হাজার কোটি। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত কাতার। তাই বিশ্বকাপের সাজ ও আলোকসজ্জাতেও রাখা হয়েছে মুসলিম সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের ছোঁয়া।
কাতারের রাজধানী দোহাসহ বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে বিশ্বনবি ও শ্রেষ্ঠনবির (সা.) বাণীসংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন। ইসলামিক ক্যালিওগ্রাফি ও ম্যুরাল শোভা পেয়েছে স্টেডিয়ামগুলোর আশপাশে। দর্শকদের সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে বিভিন্ন স্থানে দেওয়ালজুড়ে সাঁটানো বর্ণিল ম্যুরাল, ব্যানার ও ফেস্টুন।
যেখানে আরবি ও ইংরেজি ভাষায় রাসূল (সা.)-এর প্রজ্ঞাপূর্ণ অনেক হাদিস লেখা হয়েছে। হাদিসগুলোর মধ্যে অন্যতম-‘তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না। মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপন করো, তাদের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টি করো না।’ সালাম দেওয়ার শিষ্টাচার নিয়েও হাদিস সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, ‘ছোট বড়কে, পথিক বসে থাকা ব্যক্তিকে এবং কমসংখ্যক ব্যক্তি বেশিসংখ্যক ব্যক্তিদের সালাম দেবে।’
ওমরাহ ভিসা করেছেন ৪০ লাখ মানুষ
২০২২ সালে ওমরাহ মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে ৪০ লাখ মানুষ ওমরাহ ভিসা করার সুযোগ পেয়েছেন। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে আরব নিউজ ও সাবাক ওয়েবসাইট। করোনা মহামারির পর এ বছরই বৃহৎ সংখ্যায় ওমরাহ পালন করার সৌভাগ্য লাভ করলেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা।
হজের খুতবা বাংলাসহ ১৪টি ভাষায়
এ বছরই প্রথম পবিত্র হজের খুতবা বাংলাসহ ১৪টি ভাষায় সৌদি আরবের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে লাইভ অনুবাদ সম্প্রচার করা হয়। অধিক বেশি শ্রোতার কাছে সংযম ও সহনশীলতার বার্তা পৌঁছে দিতেই এ পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি সরকার।
মসজিদ নির্মাণের রেকর্ড গড়েছে মিসর
মিসরে ২০২২ সালে রেকর্ড সংখ্যক মসজিদ নির্মাণ ও পুনঃসংস্কার করা হয়েছে। এ বছর দেশজুড়ে অন্তত ১ হাজার ২০০ নতুন মসজিদ চালু হয়েছে। নতুন মসজিদগুলোর বেশ কয়েকটির নির্মাণ খরচের কিছু অংশ সরকার অর্থায়ন করেছে আর বাকি মসজিদগুলো নিজেদের খরচে নির্মিত হলেও নির্মাণকাজ তত্ত্বাবধান করেছে সরকার।
দুবাইয়ের কারাগারে হাফেজ হলেন ৬০৫ বন্দি
ফিলিস্তিনের ৭৭ কারাবন্দি এবং ৬০৫ বন্দি কুরআনের হাফেজ হলেন দুবাইয়ে। ধর্মশিক্ষা প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে পবিত্র কুরআন হিফজ করেছেন বন্দিরা। জানা গেছে, দুবাই কারাবন্দিদের পুনর্বাসনে বিভিন্ন প্রোগ্রামের ব্যবস্থা করে থাকে আরব আমিরাত সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় ধর্ম, খেলাধুলা ও পেশাদারবিষয়ক বিভিন্ন প্রোগ্রাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রাসূল প্রেম ছড়িয়ে দিতে আমিরাতের উদ্যোগ
সবার মাঝে মহানবি ও বিশ্বনবির (সা.) ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে আন্তর্জাতিক সিরাত প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণদের অন্তত ১০ লাখ দিরহাম পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেয় দেশটি।
কুরআন মুখস্থ করায় এরদোগানের সম্মাননা
তুরস্কে মাত্র এক বছরে কুরআন হেফজ সম্পন্ন করায় ১১ বছর বয়সি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশু রাফজানুর কোজাকির ও তার পরিবারকে বিশেষ সম্মাননা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। আঙ্কারার প্রেসিডেন্সি কমপ্লেক্সে রাষ্ট্রপতি রজব তাইয়েব এরদোগান ও তার স্ত্রী আমিনাহ এরদোয়ান শিশু রাফজানুর ও তার পরিবারকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
ক্যামেরুনের ফুটবলার এমবোমার ইসলাম গ্রহণ
ইসলাম গ্রহণ করেছেন ক্যামেরুনের কিংবদন্তি ফুটবলার প্যাট্রিক এমবোমা। ১৩ মে পবিত্র জুমার নামাজের পর ক্যামেরুনের ডুয়ালা শহরের একটি মসজিদে তিনি কালেমা শাহাদাত পাঠ করেন।
আমরা আরও একটি বছরে প্রবেশ করতে যাচ্ছি। নতুন বছরটি যেন সমাজ জীবনে প্রতিটি মানুষের মন থেকে সব গ্লানি, অনিশ্চয়তা, হিংসা, লোভ ও পাপ দূর করে। রাজনৈতিক হানাহানি থেমে গিয়ে আমাদের প্রিয় স্বদেশ যেন সমৃদ্ধির দিকে আরও এগিয়ে যেতে পারে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ইসলামের আলোয় ঝলকিত হোক দিগদিগন্ত।

ইসলাম শান্তির ধর্ম। মানবতা ও মানবিকতার ধর্ম। ইসলাম ধর্মে যে কোনো ভালো কাজ ভালো কথা বলা সুন্দর আচরণকে ইবাদত বলে গণ্য করা হয়েছে।
মানুষ সামাজিক জীব, সমাজ জীবনে মানুষকে চলতে হয়, বলতে হয়। প্রয়োজনে একজন অপরজনের সঙ্গে লেনদেন করতে হয়। এ সময় ভালো কথা বলা, সুন্দর আচরণ করা অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। ইসলাম তার অনুসারীকে সব সময় সুন্দর আচরণ করার ব্যাপারে জোর তাগিদ দিয়েছে।
আল্লাহপাক বলেন, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারও উপাসনা করবে না, পিতা-মাতা, আত্মীয়স্বজন, এতিম ও দরিদ্রদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার তথা সুন্দর আচরণ করবে এবং মানুষকে সুন্দর কথা বলবে। (সূরা বাকারা : আয়াত : ৮৩)।
সুন্দর আচরণ, উত্তম ও কল্যাণকর কাজ, ভালো কথা বলা এগুলো আদর্শ মানুষের বৈশিষ্ট্য। যে ব্যক্তি সুন্দর আচরণ করে এবং নিজের জন্য কিংবা পরের জন্য ভালো কাজ করে সে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে প্রিয় এবং তার রাসূলের কাছেও প্রিয়।
রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যার আচার-ব্যবহার সুন্দর, সে আমার সবচেয়ে বেশি প্রিয় এবং আমার সবচেয়ে কাছে থাকবে।’ (সুনানে তিরমিজি)। তিনি আরও বলেন, ‘ভালো কথা সদকাস্বরূপ’। (সুনানে বায়হাকি)।
রাসূল (সা.) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলনামায় সুন্দর আচরণের চেয়ে অধিক ভারী আমল আর কিছুই হবে না। যে ব্যক্তি অশ্লীল ও কটু কথা বলে বা অশোভন আচরণ করে, তাকে আল্লাহতায়ালা ঘৃণা করেন। আর যার ব্যবহার সুন্দর, সে তার ব্যবহারের কারণে নফল রোজা ও তাহাজ্জুদের সওয়াব লাভ করবে।’ (সুনানে তিরমিজি)।
তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি যা মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে তা হলো আল্লাহতায়ালার ভয় ও সুন্দর আচরণ। আর সবচেয়ে বেশি যা মানুষকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবে তা হলো মুখ এবং লজ্জাস্থান।’ (সুনানে তিরমিজি)। তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দর আচরণই নেক আমল। (সহিহ মুসলিম)।
ভালো কাজ বলতে যা বোঝায় তা হলো সব কল্যাণকর কাজ। চাই কাজটি নিজের হোক কিংবা পরের হোক। ইসলামে যে কোনো ভালো কাজকে সদকা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এ প্রসঙ্গে রাসূল (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক ভালো কাজই সদকা’। (সহিহ বুখারি : হাদিস : ৬০২১, সুনানে তিরমিজি : হাদিস : ১৯৭০)।
সব মানুষকে ভালো কাজ করার প্রতি উৎসাহ দিয়ে রাসূল (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক মুসলিমের ওপর সদকা করা কর্তব্য। সাহাবিরা বললেন, যদি তার (আর্থিক) সামর্থ্য না থাকে। নবি করিম (সা.) বললেন, তাহলে সে নিজ কর্মের মাধ্যমে নিজের এবং অপরের সাহায্য করবে। তারা বললেন, যদি সে এটি করতে সক্ষম না হয় বা না করে। তিনি (সা.) বললেন, তাহলে সে অসহায় মুখাপেক্ষীকে সাহায্য করবে। তারা বললেন, যদি সে তা না করে। তিনি (সা.) বললেন, তাহলে সে অন্যকে ভালো কাজের আদেশ করবে। তারা বললেন, যদি সে তা না করে। তিনি (সা.) বললেন, তাহলে সে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকবে, এটিই তার জন্য সদকাস্বরূপ।’ (সহিহ বুখারি)।
গণমানুষের কল্যাণে অনেক মহৎপ্রাণ ব্যক্তি এমন কিছু কাজ করেন, যা কেবল পার্থিব জগতেই নয় বরং পরকালেও এর প্রতিদান পাওয়া যায়। মানুষের এমন সব কাজ সদকা হিসাবে বিবেচিত হবে। এ প্রসঙ্গে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুমিনের ইন্তেকালের পরও তার যেসব নেক ‘আমল ও নেক কাজের সাওয়াব তার কাছে সব সময় পৌঁছতে থাকবে, তার মধ্যে-(১) ‘ইলম বা জ্ঞান-যা সে শিখেছে এবং প্রচার করেছে; (২) নেক সন্তান যাকে সে দুনিয়ায় রেখে গেছে; (৩) কুরআন যা সে উত্তরাধিকারীদের জন্য রেখে গেছে; (৪) মসজিদ যা সে নির্মাণ করে গেছে; (৫) মুসাফিরখানা যা সে পথিক মুসাফিরদের জন্য নির্মাণ করে গেছে; (৬) কূপ বা ঝরনা যা সে খনন করে গেছে মানুষের পানি ব্যবহার করার জন্য এবং (৭) দান-খয়রাত যা সুস্থ ও জীবিতাবস্থায় তার ধন-সম্পদ থেকে দান করে গেছে। মৃত্যুর পর এসব নেক কাজের সাওয়াব তার কাছে পৌঁছতে থাকবে। (সুনানে ইবনু মাজাহ : হাদিস : ২৪২, সহিহ তারগিব : হাদিস : ৭৭)।
পরিশেষে মহান আল্লাহপাক আমাদের ভালো কাজ ও সুন্দর আচরণের মাধ্যমে প্রাত্যহিক ইবাদত করার তাওফিক দান করুন।
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ভালোভাবে ধোয়ার পরও যেহেতু রক্তের দাগ ওঠেনি তাই উক্ত পাঞ্জাবী পবিত্র গণ্য হবে। তা পরিধান করে আদায়কৃত নামায সহীহ হয়েছে। কেননা দৃশ্যমান নাপাকী দূর করার পর তার দাগ যদি সহজে দূর করা না যায় তাহলে এমন দাগ দূর না হলেও কাপড় পবিত্র গণ্য হবে।
-মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৮৯৩৯; আলমাবসূত, সারাখসী ১/৯৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৪৯; আয্যাখীরাতুল বুরহানিয়া ১/৪৪৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২০৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩২৯
কিছুদিন আগে গরু জবাই করার সময় আমার সাদা পাঞ্জাবীর হাতা রক্তে ভিজে যায়। নামাযের সময় কাছাকাছি হলে আমি হাতার ঐ অংশটি পানি দিয়ে ভালোভাবে ধৌত করি। বারবার ধোয়ার পরও সেখান থেকে রক্তের দাগ দূর হয়নি। এর মধ্যেই নামাযের ইকামত শুরু হয়ে যায়। তাই আমি এভাবেই জামাতে শারীক হই। আমার উক্ত পাঞ্জাবী কি পবিত্র হয়েছে? সে পাঞ্জাবী পরে আদায়কৃত নামায কি সহীহ হয়েছে?
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ভালোভাবে ধোয়ার পরও যেহেতু রক্তের দাগ ওঠেনি তাই উক্ত পাঞ্জাবী পবিত্র গণ্য হবে। তা পরিধান করে আদায়কৃত নামায সহীহ হয়েছে। কেননা দৃশ্যমান নাপাকী দূর করার পর তার দাগ যদি সহজে দূর করা না যায় তাহলে এমন দাগ দূর না হলেও কাপড় পবিত্র গণ্য হবে।
-মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৮৯৩৯; আলমাবসূত, সারাখসী ১/৯৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৪৯; আয্যাখীরাতুল বুরহানিয়া ১/৪৪৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২০৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩২৯
free bangla font নিয়ে আজকের আয়োজন। গ্রাফিক ডিজাইন হোক বা টাইপোগ্রাফি, দৈনন্দিন লেখালেখির কাজে বাংলা ফন্ট ব্যবহারের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রয়োজনীয় চাহিদা মিটানোর জন্য অভিজ্ঞ ডিজাইনারগণ স্বীয় অভিজ্ঞতার আলোকে তৈরি করছেন ফ্রি বাংলা ফন্ট। যা বিনামূল্যে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যায়। কিভাবে free bangla font ডাউনলোড করবেন এবং ফ্রি বাংলা ফন্ট ডাউনলোড সাইট সম্পর্কে আজকে বিস্তারিত আলোচনা করব।
হাজারেরও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী অনলাইনে বাংলা ফন্ট, ফ্রি বাংলা ফন্ট, free bangla font, bangla styleis font, বাংলা প্রিমিয়াম ফন্ট, ফ্রি বাংলা ফন্ট, বাংলা স্টাইলিশ ফন্ট ইত্যাদি লিখে সার্চ করেন।
লিপিঘর দেশীয় জনপ্রিয় ফন্ট ফাউন্ড্রিগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটিই সর্ববৃহৎ ফন্ট ফাউন্ড্রি। এ পর্যন্ত লিপিঘর থেকে এ পর্যন্ত ১৪৭ টি ফ্রি এবং ১২ টি প্রিমিয়াম ফন্ট প্রকাশিত হয়েছে। বাংলা ফন্টের আধুনিকায়নে লিপিঘরের ভূমিকা অপরিসীম। খালিদ মিয়ারহাট, খালিদ কালকিনি, আজান ফেনী, খালিদ মেঠো, চিক্রক, কাদম্বরী, হাসান রংধনু, হাসান মেঘালয়, সিরাজী শেখ, সিরাজী সিলেটি, মাহফুজ এ. কে., শামীম চলন্তিকা, শামীম চিত্রাণী, শামীম নূর, সবুজ নলুয়া, সবুজ বর্ণ, মুস্তফা সা., আলিনুর দেয়ালিকা-এর মত জনপ্রিয় ফন্টগুলো লিপিঘর থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়াও লিপিঘরের রয়েছে নিজস্ব কিবোর্ড। যা ফ্রিতে ব্যবহার করা যায়।
হাফেয তাকরীমকে মোবারকবাদ দেওয়ার সাথে সাথে প্রসঙ্গের বিবেচনায় আরও দুয়েকটি কথা আরজ করতে চাই। এটি তো তার জীবনের প্রথম ধাপ মাত্র। এখনো সে শিশু বয়সে রয়েছে। হিফজুল কুরআনের পর সামনে তার পড়াশোনার পুরো জগৎ রয়ে গেছে। আল্লাহর কালাম মুখস্থ করার পর তার অর্থ-মর্ম বোঝা, সে অনুযায়ী নিজের জীবন গড়া এবং সে মর্মবাণী দুনিয়ার মানুষের কাছে প্রচারের দায়িত্ব নেওয়া- এ সবই একজন হাফেজে কুরআনের প্রধান কাজ। আর একজন প্রতিভাদীপ্ত মেধাবী ছাত্র তার ধ্যান-মন ইলমেদ্বীন ও সমাজের উপকারে নিবেদন করলে নিঃসন্দেহে প্রভূত উপকার ও উন্নয়ন সাধিত হয়। আমরা আশা করব, হাফেজ তাকরীমকে সে পথেই তার অভিভাবক ও উস্তাযগণ পরিচালিত করবেন। এই আশাবাদ ও নিবেদনের পেছনে অন্য আরেকটি কারণও রয়েছে। সেটি হচ্ছে, অতীতেও দেখা গেছে, এভাবে বিভিন্ন প্রতিভাবান হাফেজে কুরআন বিভিন্ন দেশে বড় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে, তাদেরকে নিয়ে মাতামাতিও হয়েছে, কিন্তু এর পরে তারা বড় আলেম হয়ে নিজেরা মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে, সমাজের বড় কোনো খেদমতে লেগেছে- এমন কথা শোনা যায়নি; বরং কারও কারও ক্ষেত্রে উল্টো অভিযোগও শোনা যায় যে, তাদেরকে একশ্রেণির লোকেরা নিজেদের ব্যক্তি সুবিধা লাভের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাতে থাকে এবং নিজেদের প্রচারণা করতে থাকে। এতে করে ওই ছাত্রের মন-মানসে টাকা-পয়সা, দুনিয়ার মোহ ও জৌলুস জীবনের শুরুতেই ঢুকে পড়ে এবং একটি মেধাবী প্রতিভা অঙ্কুরেই নষ্ট হয়ে যায়।